দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী আহাদ আলী ওরফে গোলকাজলকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলী, উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আলমগীর, হাসেম আলী, জোহাক আলী ওরফে রফিকুল, কামরুল ইসলাম বাচ্চু ও ফরিদ উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন পলাতক রয়েছেন।
নিহত আহাদ আলী সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজের ছেলে।
মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী লিসা বেগম বলেন, অভিযোগপত্রের কপি দেখে তারা জানতে পেরেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, এজাহারভুক্ত ওমর আলী, নুরুল ইসলাম, নাজমুল হক, নেজাম আলী ও আতাবুর হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। তাদের বাদ দিয়ে দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
লিসা বেগম বলেন, অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে তারা আদালতে নারাজি দেবেন। তার দাবি, যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের ভাই-ভাতিজা ও নিকট আত্মীয়দের মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের আইনজীবী এমদাদুল হক লুটু বলেন, আহাদ আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারে থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিদের কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হলেও অভিযোগপত্রে তার প্রতিফলন ঘটেনি। মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হাসেম আলীর মাধ্যমে আহাদকে তার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করেন। পরে তাকে আলমগীরের বাড়িতে নিয়ে বৈঠক করা হয়। সেখান থেকে চরবাগডাঙ্গা পুরাতন বাজারের আমিনুল ইসলামের মিষ্টির দোকানে নিয়ে বসে গল্প করেন তারা।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ওই রাতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর গভীর রাতে আহাদকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ গুম করা হয়। তবে কীভাবে মরদেহ পদ্মা নদীতে গিয়ে পৌঁছায়, তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আহাদ আলী চলতি বছরের ২ জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ১৮ দিন পর পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি স্বামীকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন লিসা বেগম।
মামলায় ওমর আলী ও নুরুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আহাদকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
যে আই